বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায়
জর্জরিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. সফিউলল্লাহ নেওয়াজ যোগদানের পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কথায় কথায়
হাসপাতালের স্টাফদের শোকজ, অর্থ লোপাট, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে অসভনীয় আচরন,
কর্মস্থল ত্যাগ, উৎকোচগ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া
হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। বিনা
কারণে তিনি একাধিক নার্স, কর্মরত ডাক্তার, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী,
সিএইচসিপি শোকজ করার জের সংশ্লিষ্টরা রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তাকে
মেডিকেলে নিজ কক্ষে ১ ঘন্টা তালা বদ্ধ করে। এ সময় মেডিকেলের ৬/৭ জন ডাক্তার ও কর্মচারী তার
কক্ষে আবদ্ধহয়ে পড়ে। এতে মেডিকেলের রোগিদের সেবা বন্ধ হয়ে পড়ে। রোগীদের আহাজারি ও
স্বজনদের জটলতা সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় ১ ঘন্টা পর তালা খোলা হলে ডাক্তাদের কার্যক্রম চলে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৪ সালের ফেব্রুয়ারী হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. সফিউল্লাহ নেওয়াজ। প্রথম অবস্থায় কাজ-কর্ম ভালো
দেখালেও আস্তে আস্তে তার আসল চরিত্র বের হতে থাকে। সরকারী অর্থ আত্মসাতের সাথে বিভিন্ন
ভাবে স্টাফ কর্মচারীদের কাছে উন্নয়ন কাজ করার নামে স্টাফ কর্মচারীদের কাছে চাদা আদায়ের
বিস্তর অভিযোগ উঠে। এছাড়া নানা রকম হয়রানি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার
করতেন বলে জানা গেছে।
হাসাপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের
পর থেকে তিনি একটি বলয় তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি। বিনা কারণে
তিনি একাধিক নার্স, কর্মরত ডাক্তার, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য সহকারী,
সিএইচসিপি শোকজ করেছেন। যা অতীতের ঘটনায় এটি প্রথম এবং আশ্চর্যের। এমনকি
একজনকে একাধিকবার শোকজের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা হাসপাতালের পথ্য সরবাহ অনিযম করে টাকার মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়েছেন যা থেকে
রোগীরা পরিমিত খাদ্য সরবরাহ পায় না। এমএসআর ঠিকাদার নিজের আত্মীয়কে দিয়ে অর্থ
লোপাট করেছেন। এছাড়া ধুলা, মালির এমনটি সুইপারের টাকার কমিশন কাটেন বলে অভিযোগ
উঠেছে। সম্প্রতি মেডিকেলের সৌন্দর্য বর্ধনে ফুলের গাছ লাগানোর নামে মেডিকেল
রিপ্রেজেন্টটিভ আদায় টাকাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের টাকা উত্তোলন নিয়ে
তুলকালাম ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠে অধিক টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। কাজের
অনিয়মবিভিন্ন সেক্টরের খরচ নিজেই করেন ভাউচার। এ অবস্থায় হাসপালে কর্মরত স্টাফদের মধ্যে
ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ফলে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের বহিপ্রকাশে গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডা. সফিউলল্লাহ নেওয়াকে কক্ষে আবদ্ধ করে রাখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও
কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিউলল্লাহ নেওয়াজ বলেন, আমি
রুমে ডাক্তারদের সাথে নিয়ে কথা বলছিলাম, এসময় কে বা কারা তালা লাগিয়েছিল। আমার
বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করে তারা আমার আসার পর থেকে করছে। আমি অনিয়মের কাজ করি না।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগের থেকে আমি
আসার পর পরিবেশ ভালো হয়েছে । এবং স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি
করেন।