নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও ফাঁদে ফেলে এক উদীয়মান তরুণ সাংবাদিকের সেমিস্টার ফি’র সম্পূর্ণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রতারণার শিকার ওই যুবকের নাম মোঃ সবুজ হোসেন (২৬)। তিনি রাজশাহীর স্থানীয় জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশকাল ও ফেসবুক পেজ ওবিসি নিউজ-এর একজন কর্মরত সাংবাদিক। তার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।
বুধবার (২৯জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এই জঘন্য প্রতারণার দুঃখগাঁথা তুলে ধরেন সাংবাদিক সবুজ হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জমানো টাকা ফেরত পাওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সবুজ হোসেন জানান, সম্প্রতি তিনি রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে পানিতে ডুবে যাওয়ার একটি সংবাদের তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
একই সময়ে এক দোকানদারও সবুজকে জানান যে, তার বিরুদ্ধে নাকি মামলা করা হয়েছে এবং শীঘ্রই কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফোন দিতে পারেন। এতে সবুজ মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ব্যক্তি সবুজকে প্রতারণার জালে ফেলে নগদ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা তদন্তের অজুহাতে মোবাইলে বিশেষ কিছু গোপনীয় কোড (USSD Code) চাপতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে সবুজ নির্দেশিত কোডগুলো ডায়াল করেন। কোড চাপার পরপরই তার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় পুরো ৩০ হাজার টাকা।
সবুজ জানান, প্রতারণার শিকার হওয়া এই ৩০ হাজার টাকা ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি। সম্প্রতি রাজশাহী শহরেরই একটি নগদের দোকান থেকে অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবার থেকে পাঠানো এই টাকাটি জমিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এক লহমায় জীবনের জমানো সব টাকা হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব ও দিশেহারা।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্লুত হয়ে সবুজ হোসেন বলেন, আমি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে সাংবাদিকতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কষ্টের এই সেমিস্টার ফি হারিয়ে আমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের জোড় দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সর্বসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই ভুয়া পুলিশ সেজে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো চক্রটিকে আইন ও বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।